জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে এনসিপির আত্মঘাতী হবে: রিফাত রশীদ

জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে এনসিপির আত্মঘাতী হবে: রিফাত রশীদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাত্র ৩০ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোটে গেলে তা আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

রিফাত রশীদ তার পোস্টে পাঁচটি সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। প্রথমত, এনসিপি ইতোমধ্যে ১২৫ আসনে নমিনেশন কনফার্ম করেছে এবং প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছে। মাত্র ৩০ জন নমিনেশন পেলে বাকিরা বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে, যা পার্টি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে এবং সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা হারিয়ে যাবে। মানুষ আর বিশ্বাস করবে না যে জামায়াত ও এনসিপি আলাদা, ফলে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক যাত্রার ইতি টানা হতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান ও তার রাজনীতিও জামায়াতের কাছে হস্তান্তরিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তৃতীয়ত, এনসিপির একটি বড় গ্রুপ জামায়াত-বিরোধী, যাদের মধ্যে বাম ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার লোক রয়েছে। রিফাত রশীদ গ্যারান্টি দিয়ে বলেন, এই মানুষগুলোকে জামায়াতের বণ্টনকৃত আসনে রাখা হবে না, ফলে তারা পদত্যাগ করতে পারে। এনসিপির ছাত্র সংগঠনও অকার্যকর হয়ে যেতে পারে, যা ক্যাম্পাসে তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতি নষ্ট করবে।

চতুর্থত, একাত্তরে জামায়াতের ঐতিহাসিক দায়, সাম্প্রতিক মবোক্রেসি এবং বিভিন্ন ধর্ম ও কমিউনিটির বিরোধিতার মতো বিষয়ে জামায়াতের অবস্থানকেই এনসিপির অবস্থান হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে এনসিপির ইনক্লুসিভ পলিটিক্সের বয়ান শেষ হয়ে যাবে।

পঞ্চমত, এনসিপির জামায়াতপন্থি বেল্টের হাতে পার্টির নেতৃত্ব চলে যাবে, ফলে এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি থাকবে না। রিফাত রশীদ ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, এনসিপির স্বতন্ত্র নির্বাচন করা উচিত বা নির্বাচনি সমঝোতায় যাওয়া উচিত, যাতে বাকি আসনগুলোতে শক্ত সাংগঠনিক বেসমেন্ট তৈরি করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো সারাদেশে এনসিপি কমপক্ষে ৫% ভোট পেতে পারে, যা দিয়ে কমপক্ষে ৫ জন এমপি নির্বাচিত হতে পারে। জোট করলে এনসিপির রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আরও পড়ুন