ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ জানতে চেয়েছেন। তিনি টিকাদান কর্মসূচিতে জনবল সংকট ও ইপিআই স্বাস্থ্যকর্মীদের ৯ মাস ধরে বেতন বন্ধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হামের মহামারি রুখতে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুকে দুই ডোজ এমআর টিকা দিতে হয়। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে গ্যাপ তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৯ মাস ধরে টিকা পরিবহনকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা বেতন পাননি এবং প্রায় ৩৫টি জেলায় ৪৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জবাবে বলেন, ৯ মাস আগে থেকে পোর্টাররা বেতন পান না, এটা সত্যি। তবে সরকার ক্ষমতায় আসার ৫১ দিনের মধ্যে ইপিআই স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বসেছে এবং দুএকদিনের মধ্যে তাদের বেতন দেওয়া শুরু করা হবে। তিনি জানান, টিকাদান কর্মসূচির জন্য মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব নেই, তবে সার্বিকভাবে স্বাস্থ্য খাতে লোকবল সংকট আছে।
ভ্যাকসিনের মজুত সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি এখন স্থিতিশীল আছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী কোল্ড চেইন বজায় রেখে টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহন করা হচ্ছে। তিনি সিঙ্গেল ডোজ ভায়েলের পরিবর্তে মাল্টি ডোজ ভায়েল ব্যবহারের কথা জানান, যাতে একটি ভায়েল থেকে ১০টি ডোজ দেওয়া যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১৯ কোটি টাকার ভ্যাকসিন কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন কিনেছে এবং মাঠ পর্যায়ে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। গ্যাভির মাধ্যমে সরকার ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে।
রুমিন ফারহানা সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, শুধু হাম নয়, ১০ রোগের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে দেশে। ইপিআইয়ের কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, বিওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি—এই ছয়টি টিকার মজুত শূন্য। আইপিভি ও টিসিভি টিকার মজুত জুন পর্যন্ত চলবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জবাবে বলেন, টিকার মজুত শূন্য থেকে শুরু করা হলেও ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং হাতে ও সাপ্লাই চেইনে টিকা আছে। তিনি উল্লেখ করেন, টেন্ডারে টিকা কিনতে বিলম্ব ও দুর্নীতি এড়াতে ইউনিসেফ থেকে টিকা কেনা হচ্ছে।
