কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারি ইউনিয়নে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এই এলাকায় বেশিরভাগ যান্ত্রচালিত যানবাহন বন্ধ হয়ে গেছে, যা কৃষি ও পরিবহন কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় বাজারে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা এবং পেট্রোল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ফলে মোটরসাইকেল ও ট্রলি চলাচল প্রায় বন্ধ। কৃষকরা সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফসল রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন, আর ফসল শহরে পৌঁছাতে প্যাডেলচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবেদের ঘাট থেকে চিলমারি যাওয়ার পথে তেলের বোতল হাতে ছুটতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে। আরিফুল ইসলাম নামে এক কৃষক বলেন, ‘আগে প্রতি লিটার তেল ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় পেতাম, এখন তা ১৬০ টাকা। দেড় বিঘা জমিতে প্রতি সপ্তাহে তেলের খরচ প্রায় ৩০০ টাকার মতো বেশি হচ্ছে।’
চিলমারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের কথা কেউ শুনছে না। ভুট্টার মৌসুমে একটি ট্রলির দিনে অন্তত ৫০ লিটার তেল দরকার হলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ লিটার। ফলে মাঠে গিয়ে ট্রলি আর ফিরতে পারছে না।’
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘দুর্গম এলাকা হওয়ায় ছোট ছোট দোকানে বিক্রি হওয়া এসব তেল সবসময় নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি এবং বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার চেষ্টা করব।’
এই দুটি ইউনিয়নে কৃষিজমির পরিমাণ ৬ হাজার ৪৯১ হেক্টর, যেখানে ধান, গম, ভুট্টা, কলা, পাট, চীনা বাদামসহ নানা ফসল উৎপাদিত হয়। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এ বছর ভুট্টা, পেঁয়াজ ও গমের ভালো ফলন হয়েছে।
