নিখোঁজের এক দিন পর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ প্রধানকে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
জেলা পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, জিসান অপহৃত হননি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে লাকসামের জংশন এলাকায় আহত অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জিসানের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ৮টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায় শুক্রবার সকালে নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিসান জানান, তিনি নামাজ শেষ করে মসজিদের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এ সময় একটি মাইক্রোবাস এসে থামে এবং কয়েকজন তাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে নেয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, গত ২০ মে জিসান তার ভাড়া বাসায় এক নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান ১২ জুন বিয়ে করার সম্মতি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদ থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন।
শুক্রবার রাতে ওই নারী জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণের সহায়তা এবং ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, জিসানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
জিসানকে উদ্ধার করার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় গাড়ি শনাক্তসহ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
