বাজেট অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক: জামায়াত

বাজেট অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক: জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক’ বলে মন্তব্য করেছে।

দলটির মতে, সরকারের দেওয়া এই বাজেট জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনবান্ধব, সুপরিকল্পিত ও বাস্তবায়নযোগ্য নয়। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ রাজধানীর মগবাজারে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এই বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট, যা ঋণনির্ভর এবং বাস্তবতা-বিবর্জিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহৎ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেসরকারি বিনিয়োগ কমিয়ে দেবে এবং কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত করবে।’ বাজেটের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরওয়ার বলেন, সরকারের ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের কোনও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সরকারের জন্য বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে, কিন্তু সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বৃদ্ধি করে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে।

জামায়াত প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের সঙ্গে তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁদের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা সরকারের বাজেটের তুলনায় কম ঘাটতি ও কম ঋণনির্ভর।

তিনি দাবি করেন, ‘আমাদের ছায়া বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সংস্কারভিত্তিক, যা সরকারের বাজেটের তুলনায় বেশি বাস্তবসম্মত এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।’

আরও পড়ুন