রাজশাহীর পুঠিয়ায় কম্বল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার বিকালে পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া হাটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম।
আহতরা হলেন পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আনসার আলী, বিএনপি কর্মী সৌমিক হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সাব্বির হোসেন, আনসার আলীর স্ত্রী শামীমা খাতুন, বাবু, আনোয়ার, আকরাম হোসেন, আব্দুল হান্নান, বেলাল হোসেন, এমরান আলী, শামীম হোসেন ও রনি ইসলাম। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
চিকিৎসাধীন আনসার আলী অভিযোগ করে বলেন, জিউপাড়া ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আরজ আলীর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য উপজেলা ত্রাণ শাখা থেকে ১৮টি কম্বল ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক নাজ বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি একটি তালিকা করে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সোমবার দুপুরে স্কুলে উপস্থিত থাকতে বলেন। কিন্তু এর আগেই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আরজ আলী লোকজন নিয়ে স্কুলে গিয়ে সব কম্বল নিয়ে যান।
পরে দুপুরের দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আনসার আলী তার লোকজন নিয়ে স্কুলে কম্বল বিতরণ করতে গেলে জানতে পারেন, আরজ আলী সব কম্বল নিয়ে গেছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে আরজ আলীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক নাজ বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অনুপস্থিত থাকায় একজন সরকারি কর্মকর্তা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষক হিসেবে একটি ওয়ার্ডের সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি বরাদ্দের ১৮টি কম্বল বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছিল। তবে আরজ আলী দায়িত্ব নিয়ে কম্বলগুলো বিতরণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা আরজ আলী বলেন, তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। ওয়ার্ডের নয়টি গ্রামের দরিদ্র মানুষের মাঝে দুইটি করে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি দায়িত্ব অনুযায়ী কম্বল বিতরণ করেছেন। আনসার আলী কম্বল না পেয়ে ঝামেলা করেছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
