বিরোধী দলীয় নেতা-উপনেতা পদ নিয়ে আলোচনা চলছে

বিরোধী দলীয় নেতা-উপনেতা পদ নিয়ে আলোচনা চলছে

সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসন পেয়েছে, এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসন পেয়েছে। ১১ দলীয় জোট মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, দলীয় প্রধান হিসাবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদীয় দলের নেতা হবেন।

বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দলের নেতা হিসাবে তিনিই হবেন একজন পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতা। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র এমনটিই নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হতে পারেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তবে এটা জামায়াত এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানান জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম।

সূত্রমতে, বিরোধীদলীয় উপনেতা কে হবেন তা নিয়ে রয়েছে ৪ জনের নাম। এর মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম রয়েছে সবার আগে। জুলাইয়ের সেনাপতি হিসাবে তাকেই পছন্দ করা হচ্ছে বেশি।

যদি জামায়াতে ইসলামী থেকে উপনেতা করা হয় সেক্ষেত্রে দলের তিনজন নায়েবে আমিরের নাম এসেছে। তারা হলেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এর মধ্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে।

জামায়াত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে দলের এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়াও ১১ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শরিকদের জন্যও ছাড় দিতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে দলগতভাবে ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক এনসিপি ৬টি, খেলাফত মজলিস ৩টি মিলিয়ে জোটগতভাবে তারা আসন পেয়েছে ৭৭টি। শতকরা হিসাবে দলটি এবার ভোট পেয়েছে ২৭ শতাংশ।

প্রাপ্ত আসন এবং ভোটের এই হিসাবে দলটি সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আরও ১৩টি এবং সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে ২৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন পাওয়া দলটি এবার সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হতে যাচ্ছে।

জামায়াত ১৯৯১ সালে ১৭টি এবং ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে চারদলীয় জোটে থেকে ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়। এবারই প্রথম দলটি এতসংখ্যক আসনে বিজয় লাভ করে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কমপক্ষে ৫৩টি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা ২ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন।

অন্যদিকে দলের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের দাবি করেছেন, জামায়াত জোটকে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসনে বিজয়ী করেছে জনগণ। কিন্তু ফলাফল টেম্পারিং করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী দলটির এবারের এই উত্থান নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

আরও পড়ুন