রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে, এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ৮ জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হবে।
এবারের বিধানসভা ভোট বিভিন্ন দলের কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকার, ক্ষমতা দখলের এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কে জিতবে এবং কে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা। রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটের অঙ্ক মেলানো সব সময় সহজ নয়। নির্বাচন কখনো ইস্যুভিত্তিক, কখনো প্রার্থী-নির্ভর, আবার কখনও ভিন্ন সমীকরণ কাজ করে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, কেউ প্রার্থী নন, আবার কেউ রাজ্যের বাসিন্দা নন; তবে তারা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ‘ফ্যাক্টর’।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘তিনিই প্রার্থী’ বলে পরিচিত। ২০১১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হন এবং টানা ক্ষমতায় রয়েছেন। যদিও তার দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আসন্ন ভোটে তার দলের জন্য লড়াই সহজ হবে না।
মমতার এগিয়ে থাকার ফ্যাক্টর হিসেবে উল্লেখযোগ্য তার নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পরিচয় এবং সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প। তবে, দুর্নীতি এবং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা তার দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোটারদের মন খারাপ করতে পারে।
নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করেছে। তারা জনসভা ও র্যালিতে কেন্দ্র সরকারের উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরেছে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে রাজ্যে তাদের সুবিধা পৌঁছাচ্ছে না। বিজেপির এই নির্বাচনে মোদির ইমেজ বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। তবে ভোটের আগে এসআইআর ও ভোটার তালিকা নিয়ে সমালোচনা চলছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, বিধানসভা ভোটে প্রার্থী না হলেও তার গুরুত্ব কমেনি। তিনি দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে কাজ করছেন। তবে বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে।
শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সেখানে তার প্রভাব রয়েছে।
হুমায়ুন কবীর, যিনি একসময় কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন, সম্প্রতি ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন দল গঠন করেছেন। তার দল মুর্শিদাবাদে মুসলমান ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।
এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা এবং তাদের ফ্যাক্টরগুলো ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
