মানবাধিকার কমিশন আবারও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে

মানবাধিকার কমিশন আবারও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আবারও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ পুনঃপ্রচলন এবং সংশ্লিষ্ট বিল ২০২৬ এর ওপর আপত্তি জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিলটি বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করেন।

হাসনাত বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ এর প্রয়োগ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হয়েছে, সেটি আমরা দেখেছি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামে বিরোধী দল ও মতকে দমন কমিশন হিসেবে সেটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উৎপাদন করেছে। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি, মানবাধিকার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে জামায়াতের নেতাকর্মীদের গুলি করা বৈধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯-এ চলে যাই, ২০২৫ এর অধ্যাদেশকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয় জাতি আবার পেছনের দিকে ধাবিত হবে।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯ আদতে কোনো আইন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারি আরেকটি দপ্তর বানানো হয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। সেখানে স্পিকারের নেতৃত্বে যে সিলেকশন কমিটি করা হয়েছে, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য ও একজন সচিব থাকেন, অর্থাৎ ছয় সদস্য বিশিষ্ট সিলেকশন কমিটিতে পাঁচজনই সরকার দলের।’

হাসনাত বলেন, ‘আমাদের এলজিইডিমন্ত্রী বলেছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মূলত বিরোধীদল দমন কমিশন হিসেবে কাজ করে। আমরা যদি দেখি, মানবাধিকার যেখানে যেখানে ক্ষুণ্ন হয়েছে, এগুলো কিন্তু সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থা করেছে। বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি), র্যাব ও বিভিন্ন বাহিনীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা আমরা দেখেছি, তারা মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।’ মানবাধিকার কমিশন ২০০৯-অনুসারে কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে চাইলে সেই বাহিনীর পূর্বানুমতি নিতে হয়।

তিনি যোগ করেন, ‘সরকার যে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সরকারের বাহিনীর অনুমতি নিয়ে তদন্ত যে কতটা স্বচ্ছ হবে—এই সংসদের প্রত্যেক সদস্য সেটি জানে।’ এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে হাসনাত আবদুল্লাহর সময় দুই মিনিট বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নিজে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন। সে সময় তাকে দুই মিনিটের পরিবর্তে চার মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল।

‘২০১৮ সালে আপনারা এই পাশে ছিলেন, আজকে ওই পাশে গিয়েছেন, আপনারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছেন, আজকে এই বিলের বিরুদ্ধে আপনারা অবস্থান নিচ্ছেন’ উল্লেখ করে বিএনপির উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘আজকে সময় পাল্টেছে, ঋতু পরিবর্তন হয়েছে, চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে, দিক পরিবর্তন হয়েছে। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি।’ বিরোধীদলের এই অবস্থান ইতিহাসে টেক্সবুক এক্সামপল হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ছাড়াও এটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে আদতে বাকি দুটি অধ্যাদেশকে আলঙ্কারিক করে ফেলা হয়। সরকার এই অধ্যাদেশগুলোকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না, সেটির কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

আরও পড়ুন