যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনার ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে ১১ দশমিক শূন্য সাত একর জমিতে স্বঘোষিত ‘স্লোজ্যামাস্তান’ নামে একটি নতুন ‘দেশ’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন র্যান্ডি উইলিয়ামস। তিনি নিজেকে এই দেশের ‘সুলতান’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, তার এই পদক্ষেপ বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তির ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট করেছে।
র্যান্ডি উইলিয়ামস পেশায় একজন সংগীতশিল্পী এবং রেডিও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। তিনি জাতিসংঘের স্বীকৃত ১৯৩টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে লকডাউন শুরু হলে তার ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি নিজেই একটি দেশ গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তার নবগঠিত দেশটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘দ্য ইউনাইটেড টেরিটরিস অব দ্য সভরেইন ন্যাশন অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব স্লোজ্যামাস্তান’। দেশটির রাজধানীর নাম দুবলানডিয়া এবং ১৩টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। স্লোজ্যামাস্তানের নিজস্ব মুদ্রা, পতাকা, পাসপোর্ট, জাতীয় ফল ও পশু আছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দেশটির নাগরিক সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। নাগরিক হওয়ার আগ্রহীদের তালিকায় বাংলাদেশিদের নামও রয়েছে বলে ‘সুলতান’ উইলিয়ামস জানিয়েছেন। বিদেশিদের এই ‘দেশে’ ঢুকতে ভিসার প্রয়োজন হয়, যা সুলতান নিজেই প্রদান করেন।
স্লোজ্যামাস্তানের চারপাশ কাঁটাতারে ঘেরা এবং সীমানাজুড়ে ‘স্থল মাইন’ পুতে রাখা আছে বলে উইলিয়ামস দাবি করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এসব মাইন মেক্সিকোর চিনি দিয়ে তৈরি। দেশটিতে বিদ্যুৎ-পানির ব্যবস্থা, বাড়িঘর বা অবকাঠামো নেই।
উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেশ গড়ার ঘোষণার পর তাকে তাড়াতে ন্যাটো মাঠে নামে, কিন্তু পরে তারা পালিয়ে যায়। তিনি স্লোজ্যামাস্তানকে ন্যাটোর সদস্য ভাবেন এবং ন্যাটোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাটোর অনুষ্ঠান হলে তিনি সেখানে তার ‘সরকারি’ কর্মকর্তাদের নিয়ে যোগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নানান বিধিনিষেধের কারণে র্যান্ডি উইলিয়ামস এখন মেক্সিকোর পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার সান দিয়েগো শহরে থাকেন এবং সেখান থেকে নিজের ‘দেশ’ পরিচালনা করেন। তার সাপ্তাহিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘সানডে নাইট স্লো জ্যামস’ ১৭ দেশের প্রায় ২০০ রেডিও স্টেশনে প্রচারিত হয়।
গত ৩ এপ্রিল সান দিয়েগোর সিবিএস এইট-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে উইলিয়ামস জানান, তার দেশের নাম ‘স্লোজ্যামাস্তান’ রাখা হয়েছে তার গানের অনুষ্ঠান ‘স্লো জ্যামস’ এবং ফারসি শব্দ ‘স্তান’ যোগ করে। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে ভূখণ্ড, নাগরিক ও সরকার থাকলেই তা দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই ‘দেশটিকে’ বিশ্বের সবচেয়ে নতুন ও ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো দেশ একে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। জমি কিনতে উইলিয়ামসের সাড়ে ১৯ হাজার ডলার খরচ হয়েছিল।
স্লোজ্যামাস্তানের ওয়েবসাইট অনুসারে, নাগরিক ও অতিথিদের জন্য রোববারে ‘সুলতানের সঙ্গে কফি’ পানের আয়োজন করা হয়। উইলিয়ামস আশা করেন, তার নতুন দেশে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং একদিন সবাই তার দেশকে স্বীকৃতি দেবে।
