শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই জন আহত হয়েছেন এবং পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকান্দার ছৈয়ালসহ দু’জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
রবিবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সামনে এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ঈদুল আজহার সময় গরুর হাট ইজারা নিয়ে পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকান্দার ছৈয়াল ও পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিন্টু বেপারীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৌরসভা এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে ইয়াছিন নিহত হন।
নিহত ইয়াছিনের মা বাদী হয়ে পৌরসভা ছাত্রদল নেতা রাশেদ ছৈয়াল, মিঠু আকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিঠু আকন গ্রেফতার হয়ে জেল-হাজতে আছেন। এর কিছুদিন পর সেই মামলা থেকে জামিনে আসেন ছাত্রদল নেতা রাশেদ ছৈয়াল।
মিঠুকে জামিন করানোর কথা থাকলেও সেটা না করায় রবিবার দুপুরে রাশেদ ছৈয়ালের সাথে আটক মিঠু আকনের বড় ভাই টিটু আকন জামিনের বিষয়ে আলোচনা করার একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে এসকান্দার ছৈয়াল, রাশেদ ছৈয়াল, মিন্টু ছৈয়াল, মিলন ছৈয়াল, নজরুল ইসলাম ছৈয়াল ও দ্বীন ইসলাম ছৈয়াল টিটু আকনকে মারধর করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকান্দার ছৈয়াল ও পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন আকন উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে হুমায়ুন আকনের ভাই টিটু আকনসহ ২ জন আহত হন।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত টিটু আকনকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ভেদরগঞ্জ পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকান্দার ছৈয়াল ও তার চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম ছৈয়ালকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।
পরে আহত টিটু আকনের বড় ভাই দেলোয়ার আকন বাদী হয়ে এসকান্দার ছৈয়ালকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন আকন বলেন, গতবছরের একটি হত্যাকান্ডে এসকান্দার ছৈয়াল ও রাশেদ ছৈয়াল আমার ভাই মিঠু আকনকে ফাঁসিয়ে দেয়। তখন এসকান্দার ছৈয়াল বলেছিল আমার ভাইকে জামিনে ছেড়ে আনার দায়-দায়িত্ব তিনি বহন করবেন। কিন্তু আমার ভাইকে জামিন না করিয়ে তার ভাই রাশেদ ছৈয়ালকে জামিন করায় এসকান্দার ছৈয়াল।
এ বিষয়ে আমার আরেক ভাই টিটু আকন রাশেদ ছৈয়ালের কাছে জানতে চায় তিনি জামিন পেয়েছেন আমার ভাই কেনো জামিন পেলো না। এসময় রাশেদ ছৈয়াল ও এসকান্দার ছৈয়াল কথার উত্তর না দিয়ে আমার ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আমাদের পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে আমার ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, পূর্বের একটি হত্যাকান্ড নিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে ঘটনার সূত্রপাত এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত দু’জনকে আদালতে সোপর্দ করার আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
