সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, গুম ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের যে ব্যাখ্যা সরকার দিয়েছে, তা আইনগতভাবে সঠিক নয়।
এ বিষয়ে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শিশির মনির। একই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।
শিশির মনির বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুম ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’-এর একটি অংশ, কিন্তু আলাদাভাবে গুম করার ঘটনা এই আইনের আওতায় পড়ে না। তিনি মানবাধিকার কমিশনের কমিশনারদের পদত্যাগের পর তাদের দেওয়া খোলা চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কমিশনাররা অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে আইনটিকে ল্যাপস করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আইনমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রশ্নের সঙ্গে ৩০ দিনের তদন্তের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ আইনমন্ত্রী বলছেন, এসব নেই। শিশির মনির জানান, বৈধ আইন বাস্তবায়ন না হলে তার দায় দায়িত্ব সরকারের উপর থাকবে।
এছাড়া, শোকজ করা ২৮ জন বিচারক সম্পর্কে তিনি বলেন, যেই আইনে তাদের শোকজ করা হয়েছে, সেটি বর্তমানে নেই। সুপ্রিম কোর্ট ওই আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বিচারকদের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের অধিকার।
শিশির মনির বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ গুম হলে কোথাও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে বলেন, সরকারের দায়িত্ব এটি বাস্তবায়ন করা।
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের নতুন ধারার বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, এতে পূর্বের মালিকদের কাছে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তিনি জানান, ১১৭টি অধ্যাদেশ পাস হয়েছে, ৭টি রহিত এবং ১৬টি ল্যাপস হয়েছে।
মোমেন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়গুলো ল্যাপস করায় জনগণের প্রত্যাশা আন্ডারমাইন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারদলীয় এমপিদের পজিশন তুলে ধরার জন্য বিরোধীদলীয় সদস্যদের তুলনায় অধিক সময় দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন, সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
