নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনের পরদিন একজন নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কারণে তাকে ধর্ষণ ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তার স্বামীকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নারীটি বলেন, নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে চাচাতো বোনের বাড়িতে যাওয়ার পর সেখানেও ভাঙচুর ও হামলা চালানো হয়। পরে তার স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন, সেখানে রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট চিকিৎসক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শনিবার বিকালে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ওই নারী হাসপাতালে গিয়েছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে ধর্ষণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বা আদালতের চাহিদাপত্র প্রয়োজন।
রোববার সকালে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম হাসপাতালে নারীটিকে দেখতে গিয়েছিলেন। নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে, কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, মহিলার অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা হতে পারে, তবে তদন্তের আগে পুলিশের মন্তব্য করা উচিত নয়। বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে তদন্তের আগেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ঘটনাটি তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতার কাছে তুলবেন। ইসলামী ছাত্র শিবিরও প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নারীটিকে আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল হাতিয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন। নারীটির নিরাপত্তায় হাসপাতালে সাত সদস্যের একটি পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্ত এক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা।
