১৮ এপ্রিল ১৯৭১। দুপুর ১২টা ৪১ মিনিটে কলকাতার ৯ নম্বর সার্কাস অ্যাভিনিউতে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
এদিন, কলকাতায় পাকিস্তানি দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার এম হোসেন আলী নেতৃত্বে ৬৫ জন বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারী একসঙ্গে পদত্যাগ করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাদের পদত্যাগের মাধ্যমে পাকিস্তান দূতাবাসকে বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনে রূপান্তরিত করা হয়।
হোসেন আলী মার্চ মাসের শেষের দিকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পরিকল্পনা করেছিলেন। ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর ১২ এপ্রিল নড়াইল মহকুমা প্রশাসক কামালউদ্দিন সিদ্দিকী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুগত্য প্রকাশের অনুরোধ করেন।
১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকার শপথ নেওয়ার পর হোসেন আলী প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাজউদ্দীন তাকে জানান যে, পাকিস্তানি দূতাবাসের সব বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রবাসী সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য অনুরোধ করা হবে।
হোসেন আলী ১৮ এপ্রিল সকালে পাকিস্তান দূতাবাসের ব্যাংক থেকে সাত লাখ টাকার মধ্যে চার লাখ টাকা উত্তোলন করেন এবং বাকি তিন লাখ টাকা নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংকে জমা করেন। একই দিন তিনি পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
এ সময় বিএসএফের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হোসেন আলীর পদক্ষেপে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে সাংবাদিকেরা এবং বিভিন্ন সংগঠন দূতাবাসের সামনে জড়ো হন।
হোসেন আলী সাংবাদিকদের জানান, তিনি এখন থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত নন, বরং বাংলাদেশের সরকারের আনুগত্য করবেন। তিনি পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের রক্ষার আহ্বান জানান।
১৯ এপ্রিল কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তর ও আনন্দবাজার পত্রিকায় এই ঘটনার উল্লেখ করা হয়, যেখানে হোসেন আলী পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতার কথা তুলে ধরেন।
