আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, পাইলটিং পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাইলটিং পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার একটি আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড পাবে, যা স্পর্শবিহীন চিপ ও কিউআর কোড প্রযুক্তি সম্বলিত হবে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের জন্য একটি করে কার্ড প্রদান করা হবে।
পাইলটিং পর্যায়ে যোগ্য উপকারভোগীরা মাসিক আড়াই হাজার টাকা ভাতা পাবেন। তবে সরকারি চাকরি বা বড় ব্যবসা থাকলে সেই পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য হবে না।
ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যাতে করে সুবিধাভোগীরা সহজে ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারেন। আগামী জুনের জন্য এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
