নতুন নির্বাচন, নতুন সংসদ ও দেশের নেতৃত্বে নতুন ব্যক্তি আসার ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এসব পরিবর্তন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির আবির্ভাবও এই পরিবর্তনের একটি অংশ। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময় তার সম্ভাবনা অনেকের কাছে নিশ্চিত মনে হচ্ছিল।
নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমান একটি সংযত ও চিন্তাশীল ভাবমূর্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে, যা নিয়ে গভীর আত্মসমালোচনার প্রয়োজন।
প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়া যেকারোর জন্যই চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে আমাদের দেশের মতো জটিল পরিস্থিতিতে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা একটি কঠিন কাজ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বল অবকাঠামো, জ্বালানি স্বল্পতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম।
নতুন সরকার ১৫ বছরের দুর্নীতির পর ১৮ মাসের অকার্যকর শাসনব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে চ্যালেঞ্জগুলো বেড়ে গেছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ যেমন বেকারত্ব, বিনিয়োগের অভাব ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রধানমন্ত্রীকে মোকাবিলা করতে হবে। সংসদ পরিচালনা করাও তার জন্য একটি কঠিন কাজ হতে পারে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দল শক্তিশালী থাকবে।
অতীতের নির্বাচনগুলোর পর সংসদীয় ব্যবস্থায় কার্যকর বিরোধী দলের অভাব দেখা গেছে। ভবিষ্যতে সরকারের পরিকল্পনার প্রকৃত মূল্যায়ন করার পরিবর্তে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তবে তারা সরকারি প্রক্রিয়া ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। একইভাবে, জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরাও বিশেষ সুবিধার দাবি জানাতে পারে, যা প্রধানমন্ত্রীকে কঠিন নৈতিক দ্বিধায় ফেলবে।
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এবং এই লড়াই মূলত নিজের সমর্থকদের বিরুদ্ধেই করতে হবে। দলে যদি স্বজনপ্রীতি অব্যাহত থাকে তবে সরকারের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শেখ হাসিনার শাসনামল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হচ্ছে দলের কাঠামো নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রধানমন্ত্রীকে এখন থেকেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তার দলকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে।
এখন তারেক রহমানের জন্য একটি নতুন সুযোগ এসেছে, যেখানে তিনি নবীন ও দীর্ঘসময় নির্বাসনে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি জাতিকে নতুনভাবে পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। তবে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে তাকে তার দলের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
