২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে। তবে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষায় কোনো বদল আসেনি। রাজপথের উত্তাপ আর রাজনীতির মারপ্যাঁচের ভিড়ে সাধারণ মানুষের একটাই আকুতি ‘আমরা অরাজকতা চাই না, শান্তিতে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’
গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও দেশের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নিত্যপণ্যের বাজারের চিত্র ভয়াবহ; চাল, ডাল, তেল ও চিনির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয় ভেঙে দিনাতিপাত করছে।
রাজধানীর একটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘রাজনীতিতে কে এল আর কে গেল, তাতে আমাদের পেট ভরে না। আমরা চাই স্থিতিশীল বাজার আর শান্তিতে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা। অরাজকতা মানেই হরতাল, অবরোধ আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।’
২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করলেও তাদের সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করা নতুন সরকারের জন্য প্রথম পরীক্ষার বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার যদি দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারে, তবে জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ দমানো কঠিন হবে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে যে ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে নতুন সরকার কতটা আন্তরিক থাকে, সেদিকেও নজর রাখছে তরুণ প্রজন্ম।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতিনিয়ত চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা মানেই দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। সাধারণ মানুষের দাবি খুবই সামান্য। তারা চায় না কোনো জ্বালাও-পোড়াও; চায় না ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রাজপথে প্রাণ দিতে।
তাদের চাওয়া কেবল তিনটি- ডাল-ভাতের নিশ্চয়তা; অরাজকতামুক্ত শান্তিময় পরিবেশ; ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা। বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ সময় পর মানুষ একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের আশা করছে। রাজনীতিকদের মনে রাখতে হবে, সাধারণ জনগণের ধৈর্য অসীম নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে যদি জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয় এবং অরাজকতা আবার জেঁকে বসে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটাপন্ন হতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন উন্নয়ন আর গালভরা বুলির চেয়ে শান্তির সাথে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
