তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য অর্থনৈতিক কৌশলগত কাঠামোর খসড়া তৈরি করেছে সরকার। খসড়ায় আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিবছর ২০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’ হওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নে গঠিত অ্যাডভাইজারি কমিটির বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) খসড়াটি উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে এবং জিডিপির আকার ৭৪৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।
আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২ লাখ কর্মসংস্থান হবে সাইবার নিরাপত্তা, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা এবং ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০’ খাতে। বাকি ৮ লাখ কর্মসংস্থান ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তৈরি হবে।
সরকার উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পাশাপাশি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার শিল্পকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে। ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য জাতীয় ই-ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া, প্রতিবছর ২০ লাখ কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে স্বল্প সময়ে ভাষা ও দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারি শূন্য পদে ৫ লাখের বেশি নিয়োগের জন্য স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
রপ্তানি খাতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিংকে আরও শক্তিশালী করতে পোশাক খাতের নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং অন্যান্য খাতের রপ্তানি বহুমুখীকরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ উৎপাদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানির নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ওয়ার্ক পারমিট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।
‘সুনীল অর্থনীতি’ এবং ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যটন নীতির হালনাগাদ এবং ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ উদ্যোগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
