ঢাকার কোতোয়ালি থানার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২১ জুন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার আসামিপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ দিন ঠিক করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর জন্য সময় আবেদন করেন। সালমান এফ রহমানের আইনজীবী সজিবুল ইসলাম আদালতকে জানান, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহ করে নথি পর্যালোচনা করে অব্যাহতির আবেদন প্রস্তুত করতে পারেননি। আনিসুল হকের আইনজীবী সুমন হোসেন বলেন, সিনিয়র আইনজীবী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার পক্ষে আদালতে হাজির হয়ে শুনানি করা সম্ভব না। এজন্য সময় প্রয়োজন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, নিউমার্কেট থানার হত্যা মামলায় জড়িত আসামিরা সদরঘাট ২ নম্বর মসজিদ সংলগ্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রেখে অবস্থান করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে হাতে-নাতে আটক হন। পরে তারা তাদের নাম-ঠিকানা জানায়। আটকের পর আসামি আনিসুল হকের কাছে থাকা ব্যাগে ১৭ হাজার ৫৯২ মার্কিন ডলার ও ৭২৬ সিঙ্গাপুর ডলার জব্দ করা হয়। এসময় সালমান এফ রহমানের কাছ থেকে ১২ হাজার ৬২৪ মার্কিন ডলার, ৬২০ সুইস ফ্রাঙ্ক, সাড়ে ৮ হাজার দিরহাম, ১৩ লাখ উজবেকিস্তানে সোম, ১১ হাজার ৬৫০ সৌদি রিয়াল, ৭৭৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৫০ পাউন্ড, ১৩২১ ইউরো, ৬২৩০ ভুটানের গুলট্রাম, ৩৩২০ থাই বাথ ও ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেট থানার এসআই মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
গেল বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক সচেতনভাবে ও জ্ঞাতসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও অনুমোদন ব্যতীত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রা নিজ হেফাজতে রাখেন। তারা জব্দ করা বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
