আনোয়ারা উপজেলায় মা-মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

আনোয়ারা উপজেলায় মা-মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা পাঁচ বছর বয়সী শিশুকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এ্যানি বড়ুয়া (৩৮) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। প্রিয়ন্তী স্থানীয় মাহাতা পাঠনিকোটা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আহত শিশুটি, প্রিয়াস বড়ুয়া, বর্তমানে শঙ্কামুক্ত হলেও ট্রমার মধ্যে রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবকের নাম তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫), যিনি নিহতদের দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে এ্যানি বড়ুয়া ও তার মেয়ে রান্নাঘরে রাতের খাবার তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় তেজপ্রিয় বড়ুয়া ধারালো ছুরি নিয়ে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।

তিনি প্রথমে প্রিয়ন্তীর ওপর হামলা চালান এবং পরে মা এ্যানি বড়ুয়াকে আক্রমণ করেন। হামলার সময় শিশুসন্তান প্রিয়াসকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসলে তেজপ্রিয় পালিয়ে যায়।

নিহত এ্যানি বড়ুয়ার ভাসুরের স্ত্রী সুরভী বড়ুয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, এ্যানি রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে এসে হামলাকারীর নাম বলছিলেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। রান্নাঘরের মেঝেতে প্রিয়ন্তীর নিথর মরদেহ পড়ে ছিল।

পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুজন বড়ুয়া জানান, তেজপ্রিয় বড়ুয়া বিদেশ থেকে ফিরে তার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেন, কিন্তু টাকা পরিশোধে সমস্যা হচ্ছিল। তিনি মনে করেন, ওই চুক্তিপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতেই তেজপ্রিয় তাদের বাড়িতে ঢুকেছিল।

রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তেজপ্রিয় বড়ুয়া সরাসরি জড়িত। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহত মা ও মেয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন