আন্দামান সাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ২৫০ নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে। ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করে মালয়েশিয়ার দিকে যাচ্ছিল।
প্রচণ্ড বাতাস, উত্তাল সাগর ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এটি ডুবে যায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুর্ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবের এক ভয়াবহ পরিণতি।
সংস্থা দুটি বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার আশা ম্লান করে দিয়েছে। আর মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ক্যাম্পে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে, যেখানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কারণে মানুষ নিরাপত্তা ও সুযোগের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা বেছে নিচ্ছে। বিদেশে ভালো বেতনের আশা ও পাচারকারীদের ভুল তথ্যে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এ মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেন রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এমন ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রায় আরও অনেক প্রাণ অকালে হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের এই দুই সংস্থা।
