নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জড়িয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি হাতিয়া ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়। ইউএনও মো. আলাউদ্দিন ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া দাবি করে বলেন, শত্রুতাবশত কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়ার পর ইউএনও সোমবার সকালে কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি আর কারো ফোন রিসিভ করছেন না। তবে যাওয়ার আগে তিনি অফিসে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শুনেছেন ও দেখেছেন, তবে ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেকেই ধারণা করছেন, ইউএনও হানিট্রাপে পড়েছেন।
ইউএনও মো. আলাউদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তিনি এক গণমাধ্যমকর্মীকে জানিয়েছেন, পূর্বের কর্মস্থলের কিছু বিরোধের জন্য কেউ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে নিয়ে মিথ্যা ভিডিও তৈরি করেছে এবং তিনি বিষয়টি প্রতিহত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, ইউএনও সোমবার সকালে তার দপ্তরে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।
