কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বাইকুনুর জাতের আঙুর উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা। ফুলবাড়ী উপজেলার গঙ্গারহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী গ্রামে হাসেম আলী ও রুহুল আমিন যৌথ উদ্যোগে দুই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন আঙুর বাগান, যেখানে ৪৬০টি বাইকুনুর জাতের আঙুরগাছ রয়েছে।
২০১৭ সালে মাত্র ৫০টি চারা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুরচাষ শুরু করেন তারা। আট মাসের মাথায় গাছে ফল ধরতে শুরু করলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফল সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন তারা। ২০২২ সালে ৫০টি গাছ থেকে ২০০ কেজি আঙুর বিক্রি হয়। পরবর্তীতে এই পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে ৮০০ কেজি আঙুর সংগ্রহ করা হয়। চলতি বছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ কেজি আঙুর বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
হাসেম আলী জানিয়েছেন, ইউক্রেনে থাকা এক বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম আঙুরচাষের ধারণা পান। তিনি বলেন, ‘এ বছর খরচ বাদ দিয়ে ৯ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।’ রুহুল আমীন বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে বাগান করতে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে।’
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘প্রথমে বিশ্বাস করিনি কুড়িগ্রামের মাটিতে আঙুর হবে। এখন নিজ চোখে দেখে বিশ্বাস করেছি।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়ির আঙিনা ও ছাদে সীমিত পরিসরে আঙুর চাষ হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে উৎপাদন হচ্ছে ফুলবাড়ীতে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, ‘বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে আঙুর চাষ করে হাসেম আলী ও রুহুল আমীন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’ রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কুড়িগ্রামের এই সফলতা অন্য জেলাগুলোর কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’
