রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে, সেখানে সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ফুটপাত ও সড়কের অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এই অভিযানের ফলে এলাকাটির চিত্র পরিবর্তিত হয় এবং পথচারীরা স্বস্তির সাথে হাঁটার সুযোগ পান।
কিন্তু গত কয়েক দিনে দেখা গেছে, গুলিস্তান আবার পুরোনো অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের নজরদারি শিথিল হওয়ার সুযোগে ফুটপাত ও সড়ক দখল হচ্ছে। এতে করে একবারের জন্য গতি পেয়েও গুলিস্তান আবার গতি হারাতে বসেছে।
এপ্রিল মাসের শুরু থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এরপর ৮ ও ৯ এপ্রিল গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় বড় পরিসরে অভিযান চালানো হয়। ৯ এপ্রিল গুলিস্তান আন্ডারপাস এলাকার ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
গেল বুধবার গুলিস্তান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ স্থানে হকাররা আবার তাদের অস্থায়ী দোকান বসিয়েছেন। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, যার ফলে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে এবং যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
পথচারী খোরশেদ আলম বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের পর কয়েকদিন ফুটপাতে দোকান ছিল না। কিন্তু এখন আবার ফুটপাত দখল হতে শুরু করেছে। এটিকে তিনি উদ্বেগজনক মনে করেন।
ভিক্টর বাসের চালক আব্দুল আওয়াল জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর পুরো এলাকা ফাঁকা ছিল, কিন্তু এখন আবার ফুটপাতে দোকান বসেছে। এতে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হকাররা জানান, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করা হলে তারা বাধ্য হয়ে আবার ফুটপাতে দোকান বসাচ্ছেন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, তাদের জন্য একটি সমাধান করা হোক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত আছে এবং হকারদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, হকারদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং তাদের লাইসেন্স নিতে হবে।
হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবির বলেন, উচ্ছেদের নামে হকারদের মালামাল নষ্ট করা হচ্ছে এবং তারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইপিডির অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, হকারদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
