ঈদের ছুটি শেষে চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নগরীর অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে অকটেন ও ডিজেল মিলছে না, যার ফলে বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ রয়েছে। খোলা পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।
পাম্প মালিকরা বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ দিতে পারছেন না বলে জানা গেছে। ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে মাত্র ১০০ কিংবা ২০০ টাকার তেল মিলছে, যার ফলে ব্যক্তিগত যান ও মোটরবাইক মালিকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট, পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের তাদের সমিতির আওতাভুক্ত ১৯৩টি পাম্প রয়েছে, যার মধ্যে ৪৫টি চট্টগ্রামে। তিনি দাবি করেন সবগুলো পাম্প খোলা আছে এবং কোনো পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ নেই।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি পদ্মা মেঘনা যমুনাসহ সরকারি ও বেসরকারি বিপণন কোম্পানিগুলো চাহিদা মতো তেল দিতে পারছে না পাম্প মালিকদের। আগে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সব পাম্পে বেচা-কেনা চললেও এখন পর্যাপ্ত তেল না থাকায় পাম্প মালিকরা যা আছে তা বিক্রি করেই পাম্প বন্ধ করে দিচ্ছেন। বন্দর এলাকায় ডিজেলও চাহিদা মতো মিলছে না।
সোমবার রাত ১১টায় নগরীর মুরাদপুরে ফসিল নামে একটি পেট্রল পাম্পে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। লোকমান নামে এক চালক মাইক্রোবাস নিয়ে এক ঘণ্টা দাঁড়ানোর পরও তেল পাননি বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ও বিকালে গণিবেকারি মোড়ে কিউসি পেট্রল পাম্পে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের লাইন আধা কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
বাইক রাইডাররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন, কারণ ঈদের দিন ও এর পরদিন অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় তারা তেল নিতে পারেননি। কিউসি পেট্রোল পাম্পের এক কর্মচারী জানান, দুদিন পাম্প বন্ধ ছিল এবং সোমবার সকাল থেকে তেল বিক্রি হচ্ছে। নগরীর লালদিঘি পাড়, লাভলেন ও প্রবর্তক মোড় এলাকাসহ একাধিক পেট্রল পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা কাগজ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হাজী ইউনুস অ্যান্ড কোং নামে একটি পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বিপণন কোম্পানিগুলো আগের মতো তেল দিচ্ছে না এবং আগে যেখানে এক দিন পর পর এক বা দুই ভাউজার তেল দিত এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেকে টাকা জমা দিতে পারেননি বলে অনেক পাম্প তেল সংগ্রহ করতে পারেনি। ষোলশহর এলাকায় ফসিল পেট্রল পাম্প, দামপাড়ার পুলিশ লাইনস পাম্প ও সিআরবি মোড়ের ফোর স্টার পাম্পেও তেল মেলেনি।
