চাঁদাবাজি-হামলায় থমকে থাকা ফেনীর ড্রেন নির্মাণকাজ ৬ মাস পর শুরু

চাঁদাবাজি-হামলায় থমকে থাকা ফেনীর ড্রেন নির্মাণকাজ ৬ মাস পর শুরু

চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থমকে থাকা ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ড্রেন নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে শহরের ফায়ার সার্ভিসের সামনের সড়কে কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে ৬ মাসের অচলাবস্থার অবসান হয়েছে।

এ সময় ফেনী পৌর প্রশাসক রোমেন শর্মা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন, ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) মাধ্যমে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট থেকে মহিপাল পর্যন্ত ড্রেন পুনর্নির্মাণ, ফুটপাত নির্মাণ, ডাক্তারপাড়া, শিল্পকলা একাডেমি সড়ক, জয়নাল আবেদিন সড়ক ও পাঠানবাড়ি রোড উন্নয়নসহ প্রায় ২৮ কোটি টাকার একটি পাইলট প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কার্যাদেশ পাওয়ার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ শুরুই করা যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, কাজ শুরু করতে গেলে বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলা একাডেমি সড়কে কাজ শুরুর পর অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগ তুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ বন্ধ করে দেয়। একই রাতে প্রকল্পের মালামাল সংরক্ষণাগারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে ৩ মার্চ ডাক্তারপাড়ায় এবং ৫ এপ্রিল শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে কাজ শুরুর সময় আবারও হামলা চালিয়ে স্কেভেটর ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএলের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন মিনার বলেন, এ প্রকল্পের কাজের পথে কিছু বাধা-বিপত্তি ছিল। ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে কাজ শুরু করতে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই আমরা পুনরায় কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে বিভিন্ন উপকরণসহ প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, ইতোপূর্বে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিল। তবে চাঁদাবাজি বা হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাদের সহযোগিতা চেয়েও সাড়া মেলেনি। এখন পুনরায় শুরু হওয়া কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সহযোগিতা করব।

ফেনী পৌরসভার প্রশাসক রোমেন শর্মা বলেন, স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলগুলোর সাথে আমরা পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে সকলের সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রকল্পটি বৃহৎ পরিকল্পনার অন্যতম পাইলট প্রকল্প। এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে আগামী ৬ বছরে ফেনী ক্লাস্টারে কমপক্ষে ৬০০ কোটি থেকে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা। এ প্রকল্পটি যথাযথভাবে শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন