চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধের নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় মসজিদ কমিটি। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, যেসব বাড়িতে গান বাজানো হতো, সেখানে ইমামরা বিয়ে পড়াতে যাবেন না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় ‘সমাজ রক্ষা কমিটি’ এই সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর আইনগত ভিত্তি না থাকায় পুলিশ ও প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামে পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা ও পারিবারিক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইসলামে গান-বাজনা ও অনৈতিক সংস্কৃতি হারাম।
স্থানীয় আলেমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্ব ছিল। কোন বাড়িতে গান বাজালে সেখানকার বিয়ে পড়ানো কিংবা মৃত্যুসংবাদ মসজিদের মাধ্যমে প্রচার করা হবে না বলেও জানানো হয়। গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ‘এই গ্রামে গান বাজনা ও সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার টানানো হয়েছিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর এসব ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘গ্রামে প্রায় ৪০টি পরিবার বাস করে। আগে বিয়ে বা অনুষ্ঠানে গান বাজানো হতো, তাই আমরা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম গান বাজানো যাবে না।’ অন্য বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার টানানো হয়েছিল। ফেরিওয়ালাদেরও মাইক ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না।’
মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক বিন খলিলুর রহমান জানান, ‘পথভ্রষ্ট মানুষদের সঠিক পথে ফেরাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আর কোনো নবী দুনিয়ায় আসবেন না, সমাজকে নিজেদের সংস্কার করতে হবে।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় গিয়েছিল এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ইউএনও মারুফ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ইমামের নেতৃত্বে ৮–১০ জন স্বীকার করেছেন যে তারা বিষয়টি না বুঝেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
তিনি জানান, ‘কমিটির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে এবং ইউএনও কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানাতে সম্মত হয়েছেন তারা।’
