হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। সোমবার এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চেয়ারম্যান জানান, টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে হতে যাওয়া চুক্তি সম্পূর্ণ বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে। এ পর্যন্ত নয়বার আলোচনা হয়েছে, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও এখনো কিছু বিষয়ে গ্যাপ রয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুক্তি সই হতে নেগোসিয়েশন শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। এরপর ছয় মাস থেকে এক বছরের টেস্ট রান হবে। টেস্ট রানের প্রায় ছয় মাস পর সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। সরকার ১৬ ডিসেম্বরকে ডেডলাইন নির্ধারণ করলেও দ্রুত বিমানবন্দর শিফটিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে সময় নিয়ে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন অচল থাকায় টার্মিনালের ইকুইপমেন্টের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চেয়ারম্যান জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি নিয়মিত মেইনটেনেন্স করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা চালিয়ে যেতে পারবে। মৌখিকভাবে তারা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সাপোর্ট দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। জাপানি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তাদের সঙ্গে এডিসি সমন্বয় করে কাজ করবে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। এতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি এবং সেবার মান উন্নয়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইকাও-এর অডিট প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জানান, সর্বশেষ অডিট ২০১৮ সালে হয়েছে। ২০২৪ সালে সিকিউরিটি কনসার্নের কারণে অডিট টিম আসেনি। এ বছরের অক্টোবরে একটি অডিট টিম আসার কথা থাকলেও মূল অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের মধ্যে হবে। অডিট দেরি হওয়ার পেছনে কিছু বিষয় ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে।
দেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা পেয়েছে বেবিচক। সে অনুযায়ী সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
