চুয়াডাঙ্গায় আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে দিনে তাপমাত্রা বাড়লেও রাতে শীতের অনুভূতি থাকায় জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আতঙ্কের কিছু নেই, তবে পরিবারের সচেতনতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ দিনে (২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত) হাসপাতালে ৬৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ৩১৩ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
পুরুষ মেডিসিন ও মহিলা মেডিসিনে গত ১৩ দিনে ৮৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, এর মধ্যে পুরুষ মেডিসিনে ৩৭৬ জন এবং মহিলা মেডিসিনে ৪৮৫ জন ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, দিনের গরম ও রাতের ঠান্ডার তীব্র ব্যবধানে ছোট শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা বাড়ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগেও শত শত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আসাদুল হক মালিক খোকন বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি মায়েদেরকে দুধ খাওয়ানো, গরম কাপড় পরানোর এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকরা জানান, তাদের সন্তানদের শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়ার জন্য দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুস সাকিব জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তিনি সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং মৌসুমী রোগ থেকে মুক্ত থাকার জন্য সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
