জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন : দুই ভাইসহ চার জনের যাবজ্জীবন

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন : দুই ভাইসহ চার জনের যাবজ্জীবন

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২৩ বছর আগে জাবেদ নামের এক ব্যক্তিকে খুনের মামলায় দুই ভাইসহ চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিতরা হলেন— দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন, হাবিবুল্লাহ এবং প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম। তারা সবাই কেরানীগঞ্জের রসুলপুরের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন। সাজার পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, জাবেদ পানির দোকানে কাজ করতেন। ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দেলোয়ার, হাবিবুল্লাহ ও সিরাজ তাকে সিনেমা দেখানোর কথা বলে দ্বীন ইসলামের রিকশায় করে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী ঘাটে সৈকত সিনেমা হলে নিয়ে যান। রাত ১২টার সময়ও বাসায় না ফেরায় পান দোকান মালিক নুর হোসেন মাইকিং করে জাবেদকে খোঁজাখুঁজি করেন।

পরদিন সকাল ১০টার দিকে লোকজন নদীতে জাবেদের লাশ পায়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নুর হোসেন কেরানীগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। নুর হোসেনের কথায় এবং আচরণে জাবেদের মা আমিনা বেগমের সন্দেহ হয়। দ্বীন ইসলাম বাদে অপর চারজন পরম আত্মীয়। জমি নিয়ে জাবেদের বাবার সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল। এর জেরে তারা জাবেদকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। আমিনা বেগম আদালতে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।

মামলাটি তদন্ত করে কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিনুল কাদির ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২০০৬ সালের ৮ মে নুর হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন