‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন

‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন

সরকারি জোটের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের দাবির বিষয়ে সরকারকে আরও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ‘সংস্কার পরিষদ’ নয়, বরং সংবিধানের রীতিনীতি মেনেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

রোববার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, ‘আমাদের জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে ডিল করার জন্য আরও অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। ওনারা আহত হয়েছেন, অনেকে নিহত হয়েছেন। ওনারা মূল্য দিয়েছেন বলেই আমরা আজ এখানে আছি। তাই আমাদের সহ্য ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।’

৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশে একটি ‘কোয়াজাই কনস্টিটিউশনাল’ (আধা-সাংবিধানিক) পরিস্থিতি ছিল। কারণ আমাদের সংবিধানে বলা নেই যে প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেলে কী করতে হবে। সংবিধানে গ্যাপ ছিল বলেই অনেক কিছু করতে হয়েছে। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি নেই।’

সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জবাবে পার্থ বলেন, ‘সংস্কার আর সংশোধনের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। আমরা চাইছি জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধানের ভেতরে থেকেই আসবে এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনেই আসবে। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে অন্য কিছুর পাঁয়তারা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’

আইন না বুঝে গণভোট বা সংবিধান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সমালোচনা করে আন্দালিব পার্থ একটি রূপক গল্প শোনান। তিনি বলেন, ‘এক আইন ছিল অতিথি পাখি মারলে ১০ বছর জেল। এখন একজনের বাড়ির মুরগি প্রতিবেশী জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। সেই প্রতিবেশী মামলা ঠুকে দিল ১০ বছরের জেলের দাবিতে, কারণ তার যুক্তি—মুরগিও তো এক প্রকার পাখি আর অন্যের বাড়িতে সে ছিল অতিথি! যারা আইন বোঝেন না, তাদের এভাবে বারবার বোঝানো বৃথা।’

বিরোধী দলের সমালোচনা করে পার্থ বলেন, ‘আপনারাই একমাত্র জুলাইয়ের টেন্ডার নিয়েছেন—বিষয়টি এমন নয়। আমরা গণভোট মানি কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। আমাদের সংসদ নেতাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলেছেন। ২১৭টা সিট নিয়ে আমরা এই সংসদে এসেছি আইন পরিবর্তন ও সংশোধনের জন্য। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই আমরা সংবিধানের ভেতর থেকে পরিবর্তন করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে সংবিধান জনগণের কথা বলে না, জনগণ সেই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেবে। আমরা জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে চাই এবং সবাইকে সাথে নিয়েই এই পথ চলতে চাই।’

আরও পড়ুন