ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. মাসুম উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিননামা জারি হয়। ৬ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ জামিন আদেশ দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান জোবায়েরের বেঞ্চে এ জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাসুমকে এক বছরের জন্য জামিন মঞ্জুর করা হয়। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, মাসুম মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাহাদুরপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে।
হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিননামা গ্রহণ করে মুক্তির আদেশ দেন। জামিননামায় স্থানীয় জামিনদার হিসেবে আসামির বাবা স্বাক্ষর করেছেন।
গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর দিপু দাস হত্যা মামলায় মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৯/৩০২/২০১/২৯৭/৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাসুমসহ মোট ২৬ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি নিয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, যদি আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়, তবে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে। নিহত দিপু দাসের ভাই অপু রবি দাসও এ জামিনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফ্যাক্টরির কর্মচারীদের উসকানি দিয়ে দিপুকে পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি এবং পরবর্তী বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
