ঢাকা-ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণে ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয়

ঢাকা-ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণে ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয়

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ১৮টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণে ২৮৬ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার ২৬৭ টাকার তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) বাস্তবায়নাধীন ‘বাপবিবোর বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগ)’ প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ করা হবে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের ১৪ জুন একনেকে অনুমোদিত হয়, যার মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রথম প্যাকেজে (ডব্লিউ-৩, লট-৩) ৮টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ, নকশা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও ভূমি উন্নয়নের জন্য ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯০ টাকায় কনসোর্টিয়াম অব ইইএল অ্যান্ড এফএইচএল, বাংলাদেশকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। দরপত্রে অংশ নেওয়া সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি গ্রহণযোগ্য হয়; দর প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।

দ্বিতীয় প্যাকেজে (ডব্লিউ-৩, লট-৪) ৬টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণে ৯০ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৪৪ টাকার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ কাজ পাবে ঢাকার প্রতিষ্ঠান রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। এই দরপত্রে ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি গ্রহণযোগ্য হয়; দর প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।

তৃতীয় প্যাকেজে (ডব্লিউ-২, লট-৩) আরও ৪টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৭৭ কোটি ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ টাকার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, যা বাস্তবায়ন করবে রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টির প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়; দর প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। প্রকল্পের অর্থায়ন হচ্ছে সরকারি তহবিল, বিশ্বব্যাংক ও বাপবিবোর নিজস্ব তহবিল থেকে।

এছাড়া নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজেকো) দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের পুনঃনির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) বছরে প্রায় ২০১ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (ইউনিট-২) বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাসভিত্তিক ট্যারিফ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫ দশমিক ৬০৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ৫৪১ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক ট্যারিফ ২৩ দশমিক ৭৬১ টাকা থেকে কমিয়ে ২৩ দশমিক ৬৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বছরে প্রায় ৩১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।

ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে গ্যাসভিত্তিক ট্যারিফ ৪ দশমিক ৭২৩২ টাকা থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৬৫০৩ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক ট্যারিফ ২০ দশমিক ৮১৫৯ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ দশমিক ৬৯৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে গ্যাসভিত্তিক পরিচালনায় বছরে প্রায় ৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক পরিচালনায় প্রায় ৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।

আরও পড়ুন