দুপুরে হাসি-আনন্দে বিয়ে করে বিকেলে সড়কে বর-কনেসহ ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে সাব্বির ও মিতুর বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তারা খুলনার কয়রা থেকে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশে রওনা হন।
মাইক্রোবাসে সাব্বির ও মিতুর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন। তবে তাদের যাত্রা শেষ হয়ে যায় মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে সাব্বিরের বাড়ির ১৩ কিলোমিটার আগে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের বেলাই ব্রিজের কাছে একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়।
ঘটনায় নবদম্পতি ও তাদের স্বজনদের নিথর দেহ মহাসড়কে পড়ে থাকে। কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহনাজ মোশাররফ জানান, হাসপাতালে ৯টি মরদেহ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, নৌবাহিনীর একটি অ্যাম্বুলেন্সে ৭টি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয় এবং অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে ৩ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়, যাদের মধ্যে দুজন পরে মারা যান। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজনের মরদেহ রাখা হয়েছে।
রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে খুলনা মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রারে ৯ জনের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাব্বির (২৭), মিতু (২০) ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।
মাজহারুল ইসলাম সোহান, নিহত সাব্বিরের চাচাত ভাই, জানিয়েছেন যে দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে তারা মোংলার দিকে যাচ্ছিলেন। মোংলা পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, সাব্বিরের বাবা আব্দুর রাজ্জাকও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
