দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন

দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন

দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটরিয়ামে এই জরিপ প্রকাশ করা হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। শহর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে, যা দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গেলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় এখনও ঘাটতি রয়েছে। দেশে মোট ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনও সীমিত, যা মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ফamilyভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে অঞ্চলভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সবচেয়ে বেশি হলেও পঞ্চগড়ে তা সর্বনিম্ন। কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও পিছিয়ে রয়েছে।

জরিপে ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। এ ছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের সেবা গ্রহণ করেছেন।

ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের মধ্যে মৌলিক কাজের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কপি-পেস্ট করার দক্ষতা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে রয়েছে। তবে উন্নত দক্ষতার ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এদিকে, ইন্টারনেট সেবার উচ্চমূল্যও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সামনে এসেছে। জরিপে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, উচ্চ খরচের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল সেবা সবার নাগালে আনতে হলে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে এবং দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে।

আরও পড়ুন