ধানক্ষেতের জমির আইল সাধারণত অব্যবহৃত পড়ে থাকে। সেই জমির আইলকে কাজে লাগিয়ে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করে সুফল পাচ্ছেন কৃষক আলী আজম। এটি যেন বাড়তি আয়ের নতুন পথ। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় জমির আইলে মরিচ চাষ করে তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন।
ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শোলধন এলাকায় ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করেছেন কৃষক আলী আজম। সরেজমিনে দেখা যায়, তিনি তার ২ একর বোরো ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ করেছেন, যার ফলনও খুব ভালো হয়েছে। অব্যবহৃত জমির আইলে মরিচ চাষ করে নতুন দিগন্তের পথ উন্মোচিত হয়েছে। এতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাচ্ছেন কৃষক। তার এই উদ্যোগ দেখে আরও অনেকেই মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ধানের পাশাপাশি ধানের জমির আইলে মরিচ চাষের ফলে জমির ফাঁকা জায়গার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে এবং বাড়ছে অতিরিক্ত আয়। এ পর্যন্ত কৃষক আলী আজম প্রায় ৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি।
কৃষক আলী আজম বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে ২ একর ধানের জমি রয়েছে। জমির আইল আগে খালি থাকত। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই জমির আইলে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ শুরু করি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার মরিচ ইতোমধ্যে বিক্রি করেছি। মরিচের মৌসুম শেষে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, তিনি কৃষক আলী আজমকে প্রণোদনা হিসেবে মরিচের বীজ দিয়েছেন। আলী আজম ২ একর ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ শুরু করেন। তিনি এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। এছাড়া নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আরও প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। এটি ‘পার্টনার’ পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে। ফলে জমির আইল এখন থেকে আর অব্যবহৃত থাকবে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ধানের জমির আইলে মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন এবং পরিবারের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব। এতে একদিকে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিও ঘটে। যে কোনো কৃষক বা বেকার যুবক এ ধরনের কাজে আগ্রহী হতে পারেন। আমরা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করব।
