সাত বছর আগে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যা মামলায় গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার এ রায় দেন। আদালতের প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ের দিন ছিল, তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল।
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডে ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে টিমটেক্স গ্রুপের এমডি ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম এবং তার গৃহকর্মী দিতির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।
আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা ৩ নভেম্বর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। ঘটনার প্রায় ২৭ মাস পর ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান।
২০২২ সালের ১১ অক্টোবর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
দিলরুবা সুলতানা রুবা মামলায় অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দিতিকে তার মায়ের ফ্ল্যাটে কাজের জন্য পাঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিলরুবা তার মাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এজন্য দিলরুবা তার বাসার কর্মী রিয়াজকে মায়ের ফ্ল্যাটে পাঠান।
রিয়াজ সেখানে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান এবং আফরোজা বেগমকে ডাইনিং রুমের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দিলরুবাকে জানান। দিলরুবা বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, ডাইনিং রুমের মেঝেতে আফরোজা বেগম পড়ে আছেন এবং পাশের গেস্টরুমে দিতির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।
