ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি স্বাবলম্বী হতে দুই বছর লাগবে: তথ্যমন্ত্রী

ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি স্বাবলম্বী হতে দুই বছর লাগবে: তথ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের লুটপাটের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার রাজধানীর উত্তরার এক কমিউনিটি সেন্টারে আলোকিত মাহে রমাদান এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা এমন এক সময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি যখন বিগত সরকারের লুট করে যাওয়া অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার একটা ঋণের বোঝা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আমাদেরকে প্রতিবছর বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে ৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের রপ্তানি আয় বছরে মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো, আমাদের রেমিট্যান্সের ইনকাম ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার; অথচ আমাদেরকে ৬০-৭০ বিলিয়নের আমদানি করতে হয়। ফলে আমাদের একটা ঘাটতি অর্থনীতি এবং ঘাটতি বাজেট নিয়ে চলতে হয় এবং অতীতের সরকারের লুটপাটের অর্থনীতির দায় দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। অতএব এই সরকারকে এই ভাঙা অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির হাত থেকে দেশকে আবার স্বাবলম্বী করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই কারণে আমাদের সমস্ত ভোটারদেরকে সজাগ করতে হবে যাতে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের এই জটিল সময়টাতে কেউ আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করতে না পারে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদে আমরা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে তর্ক-বিতর্ক করছি এবং আমরা এই তর্ক-বিতর্ক আরো করব কারণ গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু কোনভাবেই আমাদের সংসদের গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক এবং সমালোচনা তা যেন রাজপথে কেউ নিয়ে আসতে না পারে এবং সেই অজুহাতে যাতে আবার রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে আপনারা সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী আগামী দুই বছর যদি একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ না থাকে তবে ভাঙা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা যাবে না বলে জানান। তিনি বলেন, আমাদের যে শান্তিপূর্ণ দৈনন্দিন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন তা আমরা অব্যাহত রাখতে পারব না। অতএব প্রতিটি নাগরিককে আগামী দিনের বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নিশ্চিত করতে হবে, পাহারা দিতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র আমরা এই ধ্বংস করে দেওয়া আওয়ামী লীগের অর্থনীতি সেটাকে আবার আমরা ঘুরিয়ে আনতে পারব। আমরা যারা কেবিনেটে বসি দেশের নীতি নির্ধারণ নিয়ে কথা বলি, হিসাব তুলতে গেলে আমাদের সকলের মাথা খারাপ হয়ে যায়— এত ঘাটতি, এত টাকা কোথায় পাওয়া যাবে? আসমান থেকে তো টাকা আসবে না। অতএব, আগামী দিনের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সেই ক্ষেত্রে আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন আপনারা হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের আয়োজনকে আপনারা শেষ পর্যন্ত সামাজিক স্থিতিশীলতার উপাদানে পরিণত করবেন।

দেশে ধর্মীয় বিভাজন কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমনকি কোথাও কোথাও মাদ্রাসার ছাত্র পরিচয় দেওয়াটাও একটা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। টুপি পড়া, দাড়ি রাখা, নামাজ পড়াটাও কোন কোন জায়গাতে কোন কোন মহল সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল। অথচ আমাদের এই দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের এই এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈশিষ্ট্য। দেশে এইভাবে আমাদের ধর্মীয় এবং সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশকে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশের অন্যান্য ধর্মের মানুষদেরকেও কৃত্রিমভাবে একটা সাম্প্রদায়িক বিরোধের মধ্যে জড়িত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। এমনও খবর পাওয়া গিয়েছে পরিকল্পিতভাবে নাটক করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করে ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অথচ আমরা যারা পবিত্র ধর্মে বিশ্বাস করি তারা অন্য যেকোনো ধর্ম বিশ্বাসীর বিশ্বাসকেও সম্মান করি। হাজার বছর যাবত এই দেশে নানান ধর্ম নানান বর্ণের লোকরা আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাস করি। এর মধ্যে কোন সংঘাত এবং বিরোধ তৈরি করার প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু যারা ভোটারবিহীনভাবে গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিল এবং দখল করে থাকতে চেয়েছিল তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত। তার মধ্যে একটা বড় উপলক্ষ হচ্ছে ধর্মীয় বিরোধ তৈরি করা এবং ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিভা লুকিয়ে আছে এবং তাদের মধ্যে যে যুক্তিবোধ আপনারা তৈরি করেছেন তা শেষ পর্যন্ত শুধু আমাদের ধর্মীয় চিন্তাকেই প্রসারিত করবে না, আমাদের একটি সামাজিক ভারসাম্য পরিবেশ দিবে।

ঢাকা ১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতীব মুফতি আব্দুল মালেক, হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী প্রমুখ।

আরও পড়ুন