নারীদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৫ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

নারীদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৫ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

সুস্থ শরীরের ভিত্তি অনেকটাই নির্ভর করে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর। শুধু হজমই নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শক্তির মাত্রা এবং মানসিক অবস্থার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে অন্ত্রের। তাই ছোটখাটো হজমজনিত সমস্যাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি নারীদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন, যা জানা থাকলে অনেক গুরুতর সমস্যা আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

ডা. শেঠির মতে, যদি কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে অন্ত্রের পরীক্ষা করানো উচিত। নারীদের ক্ষেত্রে অজানা কারণে আয়রনের মাত্রা কমে যাওয়া নীরব অন্ত্রের প্রদাহ, সিলিয়াক রোগ কিংবা কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, নারীদের ‘গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস’ বা অন্ত্র ও মস্তিষ্কের সংযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল। উদ্বেগ, মানসিক আঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী চাপ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর আধিক্য, অন্ত্রের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং হজমের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে ক্লান্তি, পেটে খিঁচুনি বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো লক্ষণগুলো প্রায়ই মাসিক, মানসিক চাপ বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বলে ধরে নেওয়া হয়, ফলে রোগ শনাক্তে দেরি হয়। এসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্রুত করা সম্ভব।

পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে, যা অন্ত্রের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে। খাদ্য অন্ত্রে ধীরগতিতে চলাচল করে, উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য কমে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটব্যথা, ফাঁপাভাব বা অনিয়মিত মলত্যাগকে নারীরা অনেক সময় স্বাভাবিক হরমোনজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। আইবিএস রোগ শনাক্ত হতে গড়ে প্রায় ছয় বছর সময় লেগে যায়, যা দীর্ঘ বিলম্বের একটি কারণ। দীর্ঘদিন ধরে হজমজনিত সমস্যা থাকলে সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন