ঈদের আগে তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক জরুরি তহবিল হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে। ব্যাংকটি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এই সহায়তা গ্রহণ করেছে, যা গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ক্যাশ ফ্লো ঠিক রাখতে সহায়তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। ব্যাংকটির বর্তমান আমানত ও ঋণ আদায়ের পরিমাণ তারল্য ঘাটতি মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংকটির পর্ষদ সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যু এবং তার সন্তানদের বিবাদের কারণে ব্যাংকটির অবস্থা আরও খারাপ হয়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার সময় ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার আলোচনা শুরু হলেও, পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
২০২৪ সালের মে মাসে নতুন পর্ষদ গঠন করা হলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের কাছে চলে যায়। ওই বছর আগস্টে সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদ এস আলমমুক্ত হয় এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু পুনরায় চেয়ারম্যান হন। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকটিকে তারল্য সংকট মোকাবিলায় একাধিকবার জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে।
