পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকের বেশি পথচারী হওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পেলে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
আজ (মঙ্গলবার) গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনটি বিআইজিআরএস কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২০২৩ সালে ঢাকা শহরের সড়কে মোট ৫৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যেখানে নিহতদের ৫৬ শতাংশ (৩০৩ জন) পথচারী। এছাড়া, ২৪ শতাংশ (১২৮ জন) মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ (৪১ জন) রিকশা ব্যবহারকারী।
ডিএমপির রেকর্ড অনুযায়ী, দিনের তুলনায় রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রাবাড়ী মোড় ও বিমানবন্দর মোড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন করে এবং আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ১০ জন মারা গেছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৬৭ জন নিহত হওয়া একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পথচারী, যাত্রী ও চালকদের সচেতন হওয়া জরুরি।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান জানান, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। ফুটপাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত ও প্রশস্ত ফুটপাত এবং জেব্রা ক্রসিং স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিআইজিআরএস-এর সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত পরিবর্তন এবং সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) সিনিয়র রোড সেফটি স্পেশালিস্ট মো. মামুনুর রহমান, বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা) মেজর মো. নিজাম উদ্দিন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর সহ-সভাপতি এসএম আজাদ হোসেন, সহ আরও অনেকে।
