প্রেমিক ‘মা’ ডাকায় প্রেমিকা সুমাইয়ার আত্মহত্যা

মাদারীপুরের শিবচরে দশম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। পরিবার অভিযোগ করেছে, প্রেমিক রিফাত উকিল ও তার লোকজন মামলা উঠিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া স্থানীয় একটি হাইস্কুলে পড়ত এবং প্রেমিক রিফাতের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে রিফাত অস্বীকার করে এবং বিষয়টি সুমাইয়ার দূরসম্পর্কের মামা আবুল খায়েরকে জানায়। গত ১৭ নভেম্বর আবুল খায়ের ও রিফাতসহ কয়েকজন সুমাইয়ার নানা বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করে ও হুমকি দেয়।

পরদিন সুমাইয়া রিফাতের মায়ের কাছে বিয়ের কথা বলেন এবং হুমকির বিচার চান। রিফাতের মা তাকে আশ্বাস দিয়ে ফেরত পাঠান। ১৯ নভেম্বর রিফাতসহ তার লোকজন আবারও গালিগালাজ করে ও হুমকি দেয়। পরে আবুল খায়ের বাড়ির উঠানে বসে সুমাইয়া ও নানা বাড়ির সবাইকে ডেকে গালিগালাজ করেন এবং রিফাতকে দিয়ে সুমাইয়াকে ‘মা’ ডাকান।

বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি সুমাইয়া। দুই পক্ষ তর্কে ব্যস্ত থাকার সময় সে নানা বাড়িতে ঢুকে ঘরের দরজা আটকে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করেন, এ সময় রিফাতসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।

সুমাইয়ার মামি শুভতারা বলেন, যেদিন সুমাইয়া আত্মহত্যা করে, সেদিন আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন না, কিন্তু তার পরিবারের লোকজন গালিগালাজ করে ও হুমকি দেয়। রিফাত সুমাইয়াকে ‘মা’ ডাকার সঙ্গে সঙ্গে সে ঘরে গিয়ে দরজা আটকিয়ে আত্মহত্যা করে। সুমাইয়ার মামা মামুন বলেন, পুলিশ বিষয়টি মিমাংসার মাধ্যমে সমাধান করতে চাচ্ছে এবং রিফাতদের পরিবারও মিমাংসায় না গেলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

সুমাইয়ার দূরসম্পর্কের মামা আবুল হোসেন বলেন, তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং মামলায় তার কোনো নাম নেই। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন