বাংলাদেশে তীব্র গরমের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত এপ্রিল থেকে মে মাসে তাপপ্রবাহ দেখা দিলেও এখন সেপ্টেম্বর মাসেও গরম অনুভূত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার পার্থক্য থাকলেও এপ্রিল-মে মৌসুমকে এখনও তীব্র গরমের মাস হিসেবে ধরা হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আবহাওয়া রেকর্ডে দেখা যায়, ১৯৭২ সালের ১৮ই মে রাজশাহীতে ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসে রাজশাহীতেই রেকর্ড হয়েছে।
তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দমকা বাতাস ও ঝড়ো হাওয়া তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। অতীতে যেসব বছর তাপমাত্রা বেশি ছিল, ওই বছরগুলোতে কালবৈশাখী ঝড় কম হয়েছিল।
রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বগুড়া ও ঈশ্বরদী এই পাঁচটি স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও, চুয়াডাঙ্গার অবস্থান ও ভূগোলের কারণে এখানে তাপমাত্রা অধিকতর বেড়ে যায়।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, এপ্রিল মাসে সূর্যের কিরণ বাংলাদেশের উপর সবচেয়ে বেশি পড়ে, যার ফলে তাপমাত্রা বাড়ে। চুয়াডাঙ্গার মতো সমভূমি অঞ্চলে তাপ প্রবাহের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে।
তাপমাত্রার অনুভূতি নিয়ে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বাতাসের গতিবেগ ও জলীয় বাষ্পের পরিমাণ গরমের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসে চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহীতে গরমের অনুভূতি কম ছিল, কারণ সেখানে জলীয় বাষ্প কম ছিল এবং বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল।
তাপমাত্রার পার্থক্যও গরমের অনুভূতি নির্দেশ করে। যদি দিনের তাপমাত্রা রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে, তবে গরমের অনুভূতি বাড়ে।
