বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
মানবিক বিবেচনায় পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে মরদেহ নিতে আসা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, যা হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি করে।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ জানান, ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ৪ জনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে শুধুমাত্র সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপালের বেলাই ব্রিজের কাছে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন। মাইক্রোবাসটিতে ১৫ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১১ জন বরের পরিবারের এবং ৪ জন কনের পরিবারের সদস্য।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ বরের পরিবারের ৯ সদস্য, কনের পরিবারের ৪ সদস্য এবং মাইক্রোবাসের চালক। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা এলাকার মিতুর সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয় সাব্বিরের। নবদম্পতি মোংলায় তাদের নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নৌবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে পরিবারগুলোকে সহায়তা করেন। মরদেহগুলো নিয়ে দাফনের জন্য রাতেই গন্তব্যে রওনা হয় অ্যাম্বুলেন্সগুলো।
