বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে এনবিআরের ওপর চাপ বাড়ছে

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে এনবিআরের ওপর চাপ বাড়ছে

বিগত বছরের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, বাজেটের হিসাব মেলাতে এনবিআরের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, সঠিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাজেটের প্রাক্কলন করা হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, কাঠামোগত সংস্কার ও সুশাসনের অভাব থাকলে, এই বাজেট বাস্তবায়ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সোমবার (১৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আলোচনায় সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাজেটের হিসাব মেলাতে কৃত্রিম লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এবং শেষ বিচারে এনবিআরের ওপর চাপ দেয়া হয়। পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও কর সংস্কৃতি ছাড়া এই চাপ দেওয়া অবাস্তব।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকলে সরকারের সামঞ্জস্যের প্রশ্ন উঠবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কমানো সম্ভব নয় এবং বিদেশি ঋণের পরিশোধও কমানো যাবে না। এর ফলে ভর্তুকির ওপর চাপ আসবে, যা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে।

সিপিডি’র প্রবন্ধে সরকারের তিন বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সমালোচনা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী প্রথম বছরেই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর যে লক্ষ্য দিয়েছেন, তা অবাস্তব। যথাযথ সংস্কার ছাড়া তাড়াহুড়ো করলে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

দেবপ্রিয় বলেন, সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদল হবে না যদি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বা বাণিজ্যের সূচক বাড়ে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সমাজ ত্রিমুখী চাপে রয়েছে। নিত্যদিনের খরচ মেটাতে মানুষ সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে। টাকার অবমূল্যায়ন হলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে, যা চরম সংকটে ফেলবে জনগণকে।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে ইতিবাচক বলা হলেও বড় অঙ্কের ‘থোক বরাদ্দ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের কারণে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থেকে অর্থায়নের সুযোগ সীমিত।

দেবপ্রিয় তার বাজেট উপস্থাপনায় বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, শর্তের বদলে কর্মসম্পাদনের সূচক যুক্ত করা হচ্ছে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, ঋণ নেওয়ার শর্ত জনবিরোধী না হয়ে ‘জনমানুষের পক্ষের শর্ত’ হবে।

আরও পড়ুন