ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট দারুল কুরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তালা দেওয়া অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাতে ৫০-৬০ জনের একদল যুবক মাদ্রাসায় এসে এতিমখানার ছাত্রদের বের করে দিয়ে সেখানে তালা মেরে দেয়।
পরবর্তীতে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আহমদ হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করে এবং অফিসকক্ষে তালা দেয়। একে একে মাদ্রাসার সব কক্ষে তালা দিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলে। ঘটনার পরপরই ৯৯৯ নাম্বারে কল করে ফুলগাজী থানা পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয় এবং রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হয়।
ফুলগাজী থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ নাম্বারে কল পেয়ে শুক্রবার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। মূলত কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে মাদ্রাসা তালাবন্ধ ছিল। মাদ্রাসায় তালা ঝুলানোর বিষয়টি চারদিকে জানাজানি হলে শনিবার বিকালের দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়।
মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুল কাইয়ুম জানান, বিএনপি নেতা টিপুর নেতৃত্বে মাদ্রাসায় একদল যুবক হামলা চালায় এবং একজন শিক্ষককে মারধর করা হয়। আরেক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায় এবং একজন শিক্ষক আহত হয়, হামলার সময় সেখানে বিএনপি নেতা টিপু উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমজাদহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু জানান, এটা ভাইদের মধ্যকার ঝামেলা, তিনি এসবে ছিলেন না এবং তার নাম রাজনৈতিক গ্রুপিং এর কারণে আসছে।
জানা গেছে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা আবদুল আউয়াল অসুস্থ হওয়ার পর মাদ্রাসাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী রশিদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে। রশিদিয়া তখন মুহতামিমের দায়িত্ব দেন আউয়াল হুজুরের সন্তান হাফেজ আবদুল্লাহ নিকট। পরবর্তীতে হাফেজ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে নানানরকম অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাকে বহিষ্কার করে রশিদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং বৈঠকের মাধ্যমে নতুন মুহতামিমকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
