বিচার বিভাগের জন্য আজ কালো দিন

বিচার বিভাগের জন্য আজ কালো দিন

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, বিচার বিভাগের জন্য আজ কালো দিন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইনজীবী শিশির মনির জানান, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বরে সচিবালয়ের অর্ডিনেন্স পাস হয় এবং ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়।

আজ সংসদ অধিবেশনে সেই সচিবালয় সংক্রান্ত অর্ডিনেন্সটি রহিত করা হয়েছে। শিশির মনির এই ঘটনাকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, হাইকোর্টের এই রায় আপিল নিষ্পত্তির পর কার্যকর হবে। তবে শিশির মনির এই ব্যাখ্যাকে সঠিক নয় বলে মনে করেন। তার মতে, রায় বাস্তবায়নের পর পুনরায় এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি নেতিবাচক লক্ষণ হিসেবে থেকে যাবে।

সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, আমি মনে করি এই ঘটনার জন্য সারা বাংলাদেশের বিচারক এবং আইনজীবিদের কালো ব্যাজ ধারণ করা উচিত। এইভাবে কী কোনো একটা অঙ্গের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায়? এটি হলো একটি বিরল নজির।

পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন তারা আপিল ফাইল করবেন। যেহেতু সার্টিফিকেট আছে, তারা বলেছেন এ রায়ের কার্যকারিতা থাকবে না। দিস ইজ রং ইন্টারপ্রিটেশন।

যতক্ষণ পর্যন্ত এই ডাইরেকশনের উপরে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই ডাইরেকশন মানতে সরকারসহ সব কর্তৃপক্ষ বাধ্য। এর পরে সুপ্রিম কোর্টে যান নাই। সিএমপিও ফাইল করেন নাই। সিপি ফাইল করে কোন আদেশও নেন নাই।

কিন্তু কার্যকর হবে না এই যে ব্যাখ্যা, দিস ইজ ইন ভায়োলেশন অব দি কনস্টিটিউশন। এই ডাইরেকশনটা থাকা অবস্থায় কি করে আমাদের দেশের পার্লামেন্টেই এই ধরনের আইন পাশ করতে পারেন। বিলুপ্ত করে যে রায়ের কনসনার্স এ এই আদেশ জারি হলো, অধ্যাদেশ জারি হলো।

সরকার ছিল না বলে, পার্লামেন্ট ছিল না বলে, সেই অধ্যাদেশের কার্যকারিতাও স্টার্ট হলো। এখন সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিও বের হলো। এখন সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করতে গিয়ে অধ্যাদেশে পুরাটাকেই রিপিল করে দেওয়া হচ্ছে। রহিতকরণ করা হচ্ছে।

ইট মিনস দিস ইজ রিপিটেড অ্যাটাক অন জুডিশিয়ারি। সংসদে মেজরিটি যারা পাশ করছেন করেন কিন্তু দিস ম্যাটার উইল এগেইন বি ব্রট বিফোর দি সুপ্রিম কোর্ট ফর এ ইন্টারভিউশন। আমরা এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে অবশ্যই উচ্চ আদালতে রিট আবেদন দায়ের করবো।

আরও পড়ুন