আগামীতে সরকার যে প্রকল্পগুলো হাতে নেবে, সেখানে ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ বা বিনিয়োগ থেকে আয়ের পরিমাণ মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের আগে কী পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সেটি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য থাকায় এ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পে পরিবেশ ও প্রতিবেশের রক্ষা গুরুত্ব পাবে। এর মাধ্যমে সমাজের বৈষম্য কমিয়ে একটি কল্যাণকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ম্যান্ডেট ও জনগণের আস্থা অনুযায়ী একটি বড় লক্ষ্য ও পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও মাঠ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কীভাবে আরও কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা যায়, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ গড়ে তোলা, যেখানে সমাজের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহায়তা জোরদার করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি জেলা প্রশাসকদের জানানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসকদের বাধাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
মো. জোনায়েদ সাকি যোগ করেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পেয়েছে। প্রাথমিক লক্ষ্য হলো এগুলো পুনরুদ্ধার করা, পরে সমৃদ্ধির দিকে যাওয়া। আগামী উন্নয়ন বাজেট খুবই গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমইডিতে জেলা কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনার জন্য ডিসিরা দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রথমত, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, নতুন প্রকল্পগুলো পুরোপুরি নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে নেওয়া হচ্ছে। ইশতেহারকে প্রোগ্রামে পরিণত করে সেই প্রোগ্রামের অধীনে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত নেই। এজন্য এসআইডিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যাতে তথ্যের ঘাটতি না থাকে এবং ডেটা ম্যানিপুলেট না হয়। আইএমইডির মতো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলনে ডিসিদের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা, অর্থবছরের ‘ক্যালেন্ডার ইয়ার’ নিয়ে জটিলতা, আইএমইডির সমস্যা এবং বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিসিরা সমস্যাগুলো লিখিত আকারে দিচ্ছেন; পরে আরও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
