বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে, যা কোটি কোটি আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার এবং ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তি ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ করে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটির বিরুদ্ধে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে এর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই বিলের মাধ্যমে কোটি মানুষের আমানতের সুরক্ষাকে ধ্বংস করা হচ্ছে এবং অতীতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক বাঁচানো হয়েছে।
মিলন আরও অভিযোগ করেন, এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি ক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে, যা ব্যাংক খাতের আস্থা কমিয়ে দেবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিরোধিতার জবাবে বলেন, সরকারের মূল নীতি হচ্ছে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন বজায় রাখা। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে ব্যাংক খাতে ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি জানান, এই বিলের মাধ্যমে একটি ‘নিউ উইন্ডো’ বা নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে মূলধন পুনর্গঠনের সুযোগ প্রদান করবে।
বক্তব্য শেষে সাইফুল ইসলাম মিলন জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিলে স্পিকার তা ভোটে দেন, তবে সরকারি দলের আপত্তিতে সেটি নাকচ হয়। এর পর অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব দিলে তা সংসদে পাস হয়।
