ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে নতুন একটি অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শুরু হয়েছে। ‘তিতাস-৩১’ নামের ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর এই কূপটি দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গভীর গ্যাসকূপ হতে যাচ্ছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় এই খননকাজের উদ্বোধন করা হয়। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল জলিল প্রামাণিক আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। এ সময় চীনের খনন ঠিকাদারি ড্রিলিং প্রতিষ্ঠান সিসিডিসির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পেট্রোবাংলার পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশে এর আগে ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর কোনো গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি। সে হিসেবে এটিই দেশের সবচেয়ে গভীর গ্যাসকূপ। এই কূপ থেকে চারটি স্তরে গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, ৫৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্পের অংশ হিসেবে তিতাস-৩১ কূপটি খনন করা হচ্ছে। এটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক ২১০ দিন সময় লাগবে। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অতিচাপ অঞ্চলের নিচে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় চারটি সম্ভাবনাময় স্তরে এই অনুসন্ধান চালানো হবে।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর একই প্রকল্পের আওতায় তিতাস ফিল্ডে ‘তিতাস-২৮, ২৯ ও ৩০’ এবং গাজীপুরের কামতা ফিল্ডে একটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্প থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
